বগুড়া ক্যান্টনমন্টে তখন নির্মানাধীন।সেজন্য কর্ণেল হারুন এবং অন্যান্য অফিসারগণ ক্যান্টনমেন্টের বাইরে শহরে বাড়ি ভাড়া করে বসবাস করতেন। আমরা যে এলাকায় বাসা নিয়েছিলাম তার নাম ছিল ঠনঠনিয়া। সময়টি ছিল – ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাস। বগুড়ায় অবস্থান কালে আমাদের বাড়িতে আরেকটি ঘটনা ঘটে, যা ভুলবার নয়। তা হচ্ছে আমাদের প্রিয় আবু ভাইয়ের (আবু আইয়্যুব) মৃত্যু। তিনি হারুন সাহেবের আপন চাচাতো ভাই এবং আপন জ্যেষ্ঠ ভগ্নীর স্বামী। তিনি এদের সকলের ফ্রেন্ড, গাইড এবং ফিলসফার ছিলেন। তিনি যেন নিজের ভাইয়ের চাইতে অধিক দায়িত্বশীল ছিলেন। সেই ভাই বুকের ব্যথায় একটু অসুস্থ হন খুলনায়। সেখানকার ডাক্তার বললেন বাত জ্বরের ব্যথা, সেরে উঠবেন। কিন্তু আবু ভাই এর ধারণা হারুনরে চিকিৎসায় তিনি সেরে উঠবেন। তিনি বগুড়ায় এলেন। প্রথমেই গেলেন সি.এম. এইচ. -এ । হারুন উনার এক্স-রে দেখেন এবং অন্যান্য পরীক্ষা করেন। তিনি দেখতে পান উনার হার্ট এনলার্জড। বৃহৎ আকার ধারণ করেছে। হার্টের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। শরীরের জন্য রীতিমত রক্ত সঞ্চালন করা হৃদপিন্ডের জন্য কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হারুন খুব ব্যাকুল হন। কিন্তু আবু ভাইকে এসব বলেননি। আবু ভাই বাসায় চলে এলেন। বললেন, ‘হারুনের মুখ কালো হয়ে গেল এক্স-রে দেখে। আমাকে কিছু বললো না। তুমি একটু জিজ্ঞেস করে দেখতো, আমার কি হয়েছে। খুলনার ডাক্তার তো বললেন বাতের ব্যথা, সেরে যাবে অষুধ-পত্র খেলে।’
আমার মন ভারাক্রান্ত ছিল আগে থেকেই। কারণ আবু ভাই বাসায় পৌঁছাবার আগেই হারুন ফোনে উনার বিপদ জনক ব্যাধির কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বললাম, ঠিক আছে, আমি এখনই উনার সঙ্গে কথা বলে দেখি। পরে উনাকে বললাম, আপনার হার্টে একটু অসুবিধা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসার প্রয়োজন। হারুন বাসায় এসে বেড রেস্টের পরামর্শ দিলেন, এবং সেই রকম ব্যবস্থা করে দিলেন। বিছানার শিয়েরের দিকটা উঁচু করে দিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করলেন। পরে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ফিজিসিয়ান ডাক্তার তৈয়বকে কল দিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের বিশেষ বন্ধু। তিনি এসে উনাকে পরীক্ষা করে দেখলেন। চিকিৎসায় একমত পোষণ করলেন।
সেই সময় বগুড়ায় কোন ই.সি.জি. মেশিন ছিল না। মিলিটারি কিম্বা সরকারী হাসপাতালে, কোথাও ই.সি.জি. মেশিন নেই। রংপুর সি.এম.এইচ. থেকে মেশিন, স্পেশাল পারমিশনে, আনিয়ে উনার ই.সি.জি. করা হল। তাতে দেখা গেল উনার মাইওকার্ডিয়াল ইনফারকশান -হার্টের অবস্থা ভাল নয়। হার্ট ফেইলিওরের দিকে যাচ্ছে। যে কোনদিন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সপ্তাহ দুয়েক বেশ ভালই চলছিলেন। কারণ অসুখটা বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিলনা। বিছানায় থাকতেন বেশীর ভাগ সময়, উঠে বসতেন, টেবিলে এসে খাবার খেতেন। টেলিভিশনে খবর দেখতেন। আমার সঙ্গে অনেক গল্প করতেন দেশের সমস্যার কথা, জীবনের কথা, উনার পরিবারের কথা। আর হারুনরে প্রশংসা করতেন। খুব বুঝতে পারতাম হারুন তাঁর খুব প্রিয় পাত্র। একদিন দিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, ‘আমাকে তওবা করাবার ব্যবস্থা কর।’
হারুন অফিসিয়াল কাজে রংপুর গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তাকে জানালাম উনার অভিপ্রায়। শুনে হারুনের মন খারাপ হল, মুখভার হল। তা লক্ষ্য করে আবুভাই আমাকে বললেন, ‘হারুনকে মন খারাপ করতে নিষেধ কর। মানুষ মারা যাবার আগেই কেবল তওবা পড়তে হয় এমন কোন কথা নেই। আমার ভাল লাগবে সেজন্য করতে চাই।+
আমি পারুলরে বোন রানু আপাকে একথা জানাই। তিনি খুব তাড়াতাড়ি সব বন্দোবস্ত করে দেন। মৌলবী সাহেব, দু'তিনজন সঙ্গীসহ এসে উনাকে তওবা পড়ান। তিনি নিজেও এসব পাঠ খুব ভাল রকম জানেন। তারপর উনার আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়। তিনি বললেন, মনের দিক থেকে তিনি খুব আরাম বোধ করছেন, তাতে আমাদের ও মন খুব হালকা হয়।
হারুন প্রতিদিন উনাকে একবার চেস্ট এগজামিন করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। মন আরো খারাপ হয়। আবু ভাই খুব ধার্মিক ছিলেন। বসে বসে নামাজ পড়তেন। কারণ উঠাবসা একদম নিষেধ ছিল। আমাদের বাসায় যতদিন ছিলেন ততদিন একদম চিৎ হয়ে কখনও শুতে পারেননি। মাথার দিক উঁচু রেখেই শয়ন করতেন।
একদিন তিনি বাথরুমে যান সকাল দশটার দিকে। কিন্তু আর উঠতে পারছেন না। বাসায় কেউ নেই নেই, কাজের একটি ছোট ছেলে, আর ভাসুরের ছোট ছেলে ফারুক ছাড়া। দুই ছোট ছেলেকে দিয়ে কোন কাজ হল না। তিনি লম্বা চওড়া বিশাল দেহি মানুষ। বাড়ির সামনে একটি দোকান ছিল। সেই দোকানী দুলালকে ডেকে আনলাম। দুলাল ও দুই ছোট ছেলে বহু কষ্টে উনাকে বাথরুম থেকে বের করে এনে চেয়ারে বসায়। পরে চেয়ার টেনে এনে বারান্দায় রৌদ্রে বাসানো হয়।
আমি খুব ঘাবড়ে যাই। শুধালাম, ‘বুবুকে (উনার স্ত্রী) আসতে বলি? ’
বললেন,‘না, বাসা খালি, বাবুলও অফিসে যায়। থাক, উনার আসার প্রয়োজন নেই। তুমিই তো আমার দেখাশুনা করছ।’
বললাম, ‘বুবু হয়ত আপনার পছন্দের খাবার তৈরী করতে পারতেন। আপনার হয়ত ভাল লাগতো। আপনি একদম খাবার খাচ্ছেন না। আমার খুব চন্তিা হচ্ছে।’
বললেন, ‘না, তোমার রান্নাই ভাল। আমার মুখে রুচি নেই। আবার ঠিক হয়ে যাবে শীগিগীরই।’
আবু ভাই এরকম অসুস্থ শুনে আমাদের আত্মীয় বন্ধু অনেকেই আমাদের বাসায খুব আসতেন, উনার খবর নিতেন। তখন অনেকেই আমাকে বলতে লাগলেন, উনার স্ত্রী পুত্রকে ডাকেন, উনার অবস্থা ভাল ঠেকছে না। একদিন তিনি খুলনায় ট্রাংকলে কথা বলেন বাবুলের সঙ্গে। সকলের খবরাখবর জানতে চাইলেন। কে একজন মারা গিয়েছেন উনার বগুড়ায় আসার আগের দিন, তাদের সবার কুশল সংবাদ শুধালেন। পরের দিন হতে তিনি একটু বেশী কথা বলতে লাগলেন। আমি হারুনকে বললাম, ‘খুলনায় ফোন বুক কর।’ যান্ত্রিক কারণে সেদিন খুলনার লাইন বিকল ছিল। বগুড়ার আমজাদ ভাইয়ের স্ত্রী টেলিফোনে চাকুরী করতেন। তিনি মেজর হারুনরে ফোনকল পড়ে আছে দেখে বাসায় ফোন করেন। ওনাকে বললাম সব কথা। তিনি রাজশাহী দিয়ে খুলনায় ফোন কানেকশান লাগিয়ে দেন। কথা ভাল মত শোনা যাচ্ছিল না। আমি হারুনকে বললাম, কষ্ট করে লাইন পাওয়া গিয়েছে, অন্য কোন কথা নয়। বাবুলকে বল ওর আম্মাকে নিয়ে আজই রওনা হতে। বাবুল কথা বুঝতে পারে না। তবুও হারুন উচ্চস্বরে একই বার্তা বারবার উচ্চারণ করতে লাগলেন। লাইন সত্যি কেটে গেল। জোরে জোরে কথা বলার দরুণ আবু ভাই সবই শুনে ফেললেন । তিনি বললেন, ‘কেন তাদেরকে টানাটানি করছ। আমি কয়েক দিনের মধ্যে চলে যাবো। সেখানে আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। একটু ভাল হলেই আমি চলে যাবো।’
খাদ্যের প্রতি উনার খুব বিতৃষ্ণা। খাবার দেখলেই বিরক্ত বোধ করতেন। বলতেন এত খাবার । একটুখানি দাও। পরেই ভাল লাগছে না বলে, একেবারেই খেতেন না। বলতেন একটু পরে দিও। কমলা লেবু একটুখানি মুখে নিতেন। অন্য কিছুই নয়। পরে আমি অনুভব করেছিলাম এবং অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, মৃত্যুর পরওয়ানা যার এসে যায়, তার মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
সেদিন সন্ধ্যায় আমি উনার শয্যাপাশে বসা। উনি আধো শোয়া অবস্থায় অনেক গল্প করলেন। নিজের গল্প, পরিবারের গল্প। মাঝরাত থেকে একটু প্রলাপ বকতে শুরু করলেন। তন্দ্রাচ্ছন্নভাব। তারই মাঝে কাকে যেন অংক শেখাচ্ছেন। তিনি ছিলেন সেই যুগের বি.এস.সি পাশ এবং অংকে ওস্তাদ । টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন ডিপার্টমেন্টে সে আমলে ইঞ্জিনিয়ারের চাকুরী করতেন। যারা মৃত এবং বহুদিন পূর্বে গত হয়েছেন তাদের সকলের নাম ধরে কথা বলতে লাগলেন। আমি তাদেরকে অনেককে চিনি না। তিনি তাদের কথা বলতে থাকলেন অনর্গল।
হারুন সাহেব, বাড়িওয়ালা ও অন্যান্য পরিচিত সকলকে আবু ভাইয়ের অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে রাখলেন। পরদিন বাসা র্ভতি লোকজন। কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু নিজে থেকে কথা বন্ধ রাখতে পাচ্ছেন না। আর্মি ইউনিটের মৌলভী সাহেবরা এসে অনেক দোয়া পড়ালেন। আর্মির চিকিৎসকরা এলেন। দেখলেন, বুঝলেন যে আর তেমন কিছু করবার নেই।
সন্ধ্যার দিকে বুবু ও বাবুল (উনার স্ত্রী পুত্র) এসে পৌঁছালেন। আবু ভাই তাদেরকে চিনলেন। বললেন, ‘এসেছ, এসেছ তোমরা?’
তারপর আবার সেই প্রলাপ, সারারাত এইভাবে কেটে গেল। ভোরেও বাসায় প্রচুর লোকজন। ব্রিগেড কমান্ডার সাদেকুর রহমান চৌধুরী নির্দেশ দিলেন, মেজর হারুনরে যা কিছু সাহায্যের প্রয়োজন, তা যেন ইউনিট থেকে দেয়া হয়। মেজর হারুন সাহেবের পুরো ইউনিট আমাদের পাশে ছিল। সি. এম. এইচ. এর সি. ও., কর্নেল আব্দুস সালাম, মেজর হারুনকে সর্বপ্রকার সহযোগীতা দান করেছেন। মেডিকেল এসিসট্যান্টরা সাকশান মেশিন দিয়ে একটু পর পর উনার গলা পরিষ্কার করে দিতে থাকলো।
এদিকে আমি মুখরোচক খাবার কি দেয়া যায় সেজন্য বাজারে লোক পাঠালাম। শিং মাছের পাতলা ঝোল দিয়ে যদি নরম ভাত একটু খাওয়ানো যায়। সকাল নয়টার দিকে কমলা লেবুর কোয়া ছিলে উনার মুখে তুলে দিচ্ছিলাম। পিছনে বেড উঁচু করে উনাকে বসানো হল। একটি কোয়ার ভেতরে বীজ ছিল। আস্তে আস্তে সেটিকে বের করে নিজের হাতে নিয়ে আমাকে দিলেন।
বললাম, ‘মিষ্টি কমলা আরেকটু খান, আপনার ভাল লাগবে।’
বললেন, ‘কি যে বল তুমি!’
তারপর আর খাবেন না বলে ইশারা করলেন। মনে মনে ভাবলাম, আজ দুপুরের খাবারটা একটু আগেই দেবো। উনার খাদ্য গ্রহণ বিশেষ প্রয়োজন। শরীরের শক্তি ক্রমশই কমে আসছে। খাচ্ছেন না বলেই এই অবস্থা।
একটু পরেই উনার গলায় কেমন ঘরঘর আওয়াজ হতে লাগলো। বুবু ব্যাকুল হলেন। বললেন, এ আওয়াজ আমার চেনা। জীবনে অনেকবার এ আওয়াজ আমি শুনেছি। এ আওয়াজ বাঁচার আওয়াজ নয় বলে কান্না শুরু করলেন। সেই সময় আমাদের বাসা লোকে লোকারণ্য। হারুনরে চাচাতো ভগ্নিপতি সালাহউদ্দিন ভাইও ঘরে বসে আছেন। আরো কতজন! মৌলভী সাহেব কোরান তেলাওয়াত করতে লাগলেন। মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট গলা পরিষ্কার করে দিচেছ। বুবু, বাবুল, হারুন উনাকে জাপটে ধরে রেখেছেন। আমি ও অন্যান্যরা উনার হাতে, পায়ে ধরে রাখলাম। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে এরকম চলতে থাকলো। হঠাৎ উনার গলার আওয়াজ থেমে গেল। একবার চারিদিকে তাকিয়ে তাঁর চোখের পাতা মুদ্রিত হল। তিনি শান্ত হলেন। নীরব হলেন। চলে গেলেন মহা প্রস্থানের পথে চিরতরে। আমাদের সকলের হাতের বন্ধন আগ্রাহ্য করে কখন চলে গেলেন বুঝতে পারলাম না।
সারা শরীর গরম, হাত, পা ঠান্ডা নয়, স্বাভাবিক। মনে হয় ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিন্তু না, তিনি আর ইহজগতে নেই। মাত্র একটি নিশ্বাসের এপার ওপার। এই মাত্র ছিলেন, এখনই নেই। নাই, নাই, কোথাও নাই। মাত্র ৫৭ বৎসরের দেহ ত্যাগ করে তিনি চলে গেলেন। ঘর ভরা লোক। কেউ তাকে রাখতে পারলো না। সকল মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে তিনি উর্দ্ধলোকে আরোহন করলেন। কত কাজ করা বাকী ছিল। সব ফেলে রেখে চলে গেলেন।
আমরা গভীর দুঃখে মগ্ন হলাম। উপস্থিত আমাদের বন্ধু ও অন্য ভদ্র মহিলাগণ আমাদের সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। জীবনের বাস্তবতা কথা বললেন কেউ কেউ। সকলকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, জন্মিলে মরিতে হবে........। কত কথা বলে তারা আমাদের সীমাহীন শোকে অংশ গ্রহণ করেন।
বাজার করতে দিয়েছিলাম অনেক কিছু। রান্না আর করা হলনা। তিনি আর কোনদিন বলবেন না, ‘একটু খাবার দাও, ক্ষুধা পেয়েছে।’
সকলে মিলে আবু ভাইয়ের শেষ কৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন। দেখে মনে হচ্ছে তিনি ঘুমাচ্ছেন শান্তিতে । প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে মনেই হচ্ছে না। ডাকলেই যেন উঠে বসবেন। নামাজ পড়বার জন্য তৈরী হবেন, কথা বলবেন। কিন্তু তা আর কোনদিন হবে না। উনার নুরানী চেহারা বড় পবিত্র দেখাচ্ছিল। বিকেলের দিকে নামাজে জানাজা শেষে বগুড়ার ভাই পাগলার মাজার সংলগ্ন সরকারী কবরস্থানে উনাকে সমাহিত করা হলো। হারুন সাহেবের পুরো মেডিকেল ইউনিট ও অন্যান্য বন্ধু বান্ধব, পরিচিত ও সকলেও উনার জানাজায় শরীক হলেন।
আমাদের এই দুঃসময়ে পারুলের বোন রানু আপা, আমাদের বন্ধু কাইয়ূম সাহেব, আমাদের দেশের ছেলে মহিউদ্দিন, বাড়িওয়ালার ছেলে আক্কাস ও অনান্য স্থানীয়রা ভীষণভাবে সাহায্য করেছিলেন। আল্লাহর রহমতে দাফন কার্য এমন সহজতর হয়েছিল, যা কল্পনা করা যায় না। নিজের গ্রাম নয়, নিজের শহর নয়, আত্মীয়স্বজন নেই সেখানে,তবুও সকলে এমন সাহায্যের হাত বাড়ালেন যেন আপনার চেয়ে আপন তারা। মানুষের বিপদে যারা পাশে দাঁড়ায়, তারাই প্রকৃত আপন জন। আমরা চিরকাল তাদের সহানুভূতি ও সদাচরণের কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ রাখবো।
আবু ভাইয়ের মৃত্যু বগুড়াকে আমাদের নিকট চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। উনার অর্ন্তধান আমাদের পরিবারে এক বিরাট ক্ষতি। উনার মৃত্যুতে পরিবারের সকলের মনোবল ভেঙ্গে যায়। আজও আমরা উনার জন্য খুবই কষ্ট পাই। উনার অভাব অনুভব করি। তাঁর কবর আজও সেই গোরস্থানে বাঁধানো রয়েছে। চির নিদ্রায় শায়িত আছে তাঁর মরদেহ। মহাকালের যাত্রীদের কাফেলায় তিনি শরীক হয়েছেন।
.........
No comments:
Post a Comment