Wednesday, June 10, 2026

উৎসর্গ

 আমার পিতাকে
যাঁর জীবনের পাথেয় ছিল আপোষহীন নীতি আর শৃঙ্খলা।
 
আমার মাতাকে
ছেলেমেয়েদের মেধা ও মননশীলতায় যিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ।

আমার স্বামীকে
শিক্ষিত ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য।

আমার ছেলেমেয়েকে
সবকিছুকে যোগ্য থেকে যোগ্যতর করার জন্য।

আমার নাতি নাতনী ফারজাদ ফারহিনকে
তাদের সকল প্রয়াসকে সুন্দর ও সার্থক করার জন্য।


Sunday, May 31, 2026

কবিতা - বৃক্ষ


সবুজ গাছের রস খেয়েছ

ফল খেয়েছ, ফুল নিয়েছ তুলে,

ছাল,বাকল। সব খেয়েছ,

   শিকড় খেয়েছ গিলে।

 

মরা ডালে ঘর বেঁধেছে

   পোকা মাকড় চিলে,

এখন তুমি ফিরে এলে 

     পড়ন্ত বিকেলে।

 

এবার তুমি কি নিতে চাও?

    কি বা দেবার আছে?

শুকনো খড়ি? নীরস পাতা?

    সব নিয়ে যাও যেচে।

 

যদি কভু চলতে পথে

    আস মনের ভুলে,

একটু খানি বসে যেও

    শুষ্ক তরুর মূলে।

 

ঢাকা

১১.১১.১১

Thursday, May 28, 2026

কবিতা - ‘করোনা’ সমাচার

 কোথায় আল্লাহ্,কোথায় যীশু,
        কোথায় ভগবান?
কোথায় খোদা,কোথায় স্রষ্টা 
        কোথায় শয়তান?
কোথায় ইবলিশ,কোথায় নমরুদ
        কোথায় কামান,কোথায় বারুদ!
কোথায় জ্বীন,কোথায় পরী?
        কোথায় বাদশাহ্,কোথায় সম্রাট?
কোথায় কালাপাহাড়,কোথায় লুকিয়ে 
              বিখ্যাত চেঙ্গিস!
কেউ কি পারে না করতে বিনাশ 
            কভিড ১৯-বিশ?
কোথায় ফেরেশতা,জ্বীনের বাদশাহ্
         কাজ করে কিছু দেখাও তোমরা 
            হাজার বছরের প্রতি –শ্রুত সুরক্ষা।
কেউ আছে কি –
        কেউ কি আদৌ 
              ছিল কোনদিন?
সবদিকে চেয়ে,দেখি আজ যেন
          ব্যর্থ ট্রাম্প ও পুতিন।
নির্মম ভারী,নিষ্ঠুর মারি, 
        বড়ই কঠোর,বড়ই কঠিন, 
সুচতুর তারা আনতে ব্যস্ত  
        ফলস্ ভ্যাকসিন। 
কেউ থাকবেনা আর অসহায়,মানুষের পাশে দাঁড়াবার।                             
          চারিদিকে কেবলই মৃত্যুর হাহাকার!
কেউ নেই কোনখানে,
       কেউ ছিলনা 
          কখনো কোনদিন
শুধু আছে প্যানডেমিক
        বধিবারে প্রাণ,নির্বিঘ্নে নিশ্চিত।
করোনার করুণা চেয়ে 
        লাভ নেই আর,
        মৃত্যুর আঁধার ঢাকে চারিধার।
বিধাতার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ
        আশরাফুল মখলুকাত, 
             হতবাক আজ ! 
তাদের পৃথিবী কেড়ে নিল কারা –
             কোন মহারাজ?
এই ধ্বংসের জবাব 
        জানা নেই কারো আজ
বড়ই নির্মম,বড়ই নিঠুর,বড়ই নিলাজ,
উন্মত্ত নৃত্যে মত্ত আজিকে আজরাইল 
                   যমরাজ।
‘করোনা কভিড’ হবে সেই দিন শান্ত
রইবেনা যখন এ গ্রহে 
       একটি মানুষও জীবন্ত।
              ……

২৮শে মে, ২০২১


Thursday, May 21, 2026

কবিতা - স্বপ্নের শবাধার

স্বপন দেখিনু এক           
      রজনীর শেষে
কে যেন ডাকিছে মোরে   
      বাতায়নে এসে
ওঠো ওঠো, চেয়ে দেখ,   
      নরম চাঁদের আলো
দূর করে দিয়ে গেছে,     
      জগতের সব কালো।
ঐ দেখি –
পৃষ্ঠদেশে একজন বহিছে
         সাদা শবাধার
ঃ কেন বহিছ শবাধার? পাওনি কো কিছু আর ?

শুভ্র চাঁদনী রাতে, শুভ্র শবাধার,      
           নিস্তব্ধ চারিধার
সময় পাইনি তার
         মুখাবয়ব দেখিবার!
শুধালাম তারে – কোন পরপারে
কি নিয়ে চলেছ পথিক কোন ঠিকানায়?
ঃ উন্মুক্ত করিয়া দেখ কে যায় কোথায়!

সাদা জোছনা,সাদা শবাধার, 
          সাদা চরাচর,
খুলে দেখি সাদা শব,  
         নিদ্রায় কাতর।
চমকে উঠি, পিছে হটি, 
        এ যে চেনামুখ!
সারাটি জীবন দেখেছি যে তারে, 
            পেয়েছি যে কত সুখ!
শুধাই তাহারে পুনঃ –
কে তুমি? কেন তারে নিয়ে যাও 
              কোন সুদূরে?
ঃ আমিই তুমি,তুমি যে আমি, 
          চিনিলে না মোরে?


চমক ভাঙ্গিলো মোর,ঘন তমসার ঘোর, 
                     মোর চারপাশে
আমার শব আমিই বইছি, 
                     অস্তাচলের দেশে।
                      ......

Thursday, May 14, 2026

কবিতা - কোভিড 19

এসেছ করোনা ভাই রুদ্র বেশ ধরি

কেন এত ত্বরা তব, কেন কড়াকড়ি

ধরায় ফেলিছ জাল টর্নেডোর বেগে

বধিছ সৃষ্টির সেরা মানবেরে 

                     কঠোর আবেগে।

কেন এত ক্রোধ, কেন এত দ্রোহ

                  মানব জাতির পরে।

নিঠুর নির্মমতা দূর করে আন আনুরাগ

মানুষ জাতিরে করো ক্ষমা, ওগো ভাইরাস।

ত্যাগ করো ক্রোধ, হে রুদ্র ‘করোনা’

বাঁচাও মনুষ্য জাতি, করোনা বঞ্চনা।  

মুখ তুলে চেয়ে দেখ এই সুন্দর পৃথ্বি

রোদ্র ঝলমল, আকাশ বাতাস, সবুজ বনবীথি।

মানবজাতির কীর্তি যত, বিধাতার ইঙ্গিত

তুমিও করো না ভাই , ধরো সুখ সঙ্গীত।

বাঁচাও মনুষ্য প্রাণ, বাঁচাও জল স্থল অন্তরীক্ষ

এবার ঘুরে দেখ সৃষ্টির সেরা মানুষের দুঃখ। 


হে নীরব ঘাতক ‘করোনা’, কোরো না বিনাশ

এবার ফিরে যাও তুমি, যেথা তব বাস।

আর ফেলিও না জাল, আর বধিও না প্রাণ

বিধাতার কাছে এই মোর চাওয়া 

প্রাণ খুলে করি তার ধ্যান।

.........

৩রা বৈশাখ, ১৪২৭

১৬.৪.২০২১   


Saturday, May 2, 2026

কবিতা - বৈশাখ

 

বিদায় দিয়েছি কাল, চিত্রার চৈত্র মাস

দুয়ার খুলে দেখি আজ পহেলা বৈশাখ।

মলয় হিল্লোল ডাক দিয়ে যায়

             ছুঁয়ে যায় তনুমন,

কচি কিশলয়ে ভরে গেছে শাখা

            খুলে দিয়ে আবরণ।

 

বসন্তের ঝরাপাতার গান গেছে থেমে

সবুজ পাতার মেলা বসেছে, এই নব ধরাধামে।

নতুন পত্র পল্লবে পড়ে’ নবীন সোনালী আভা

আনন্দে চিত্ত চঞ্চল হয়, এ দৃশ্য মনলোভা।

 

পাতায় পাতায় লুকোচুরি খেলে ফুলের নব মঞ্জুরী

মৃদু সমীরণ দোলা দিয়ে যায়, যত আছে ফুলকুড়ি

মধুকর আসে মনের খুশীতে বসে ফুলের ’পরে

অতি আদরে সুহাগে সাদরে মধু আহরণ করে।

 

রোদের ঝলকে চিকচিক করে নবীন পাতা

পথপাশে যত গাছ আছে তারা ডেকে বলে কত কথা

জীর্ণ শীর্ণ পুরাতন যত একসাথে পথ চলা

ফেলেতো দেবোনা, থেমে তো যাবেনা জীবনের রথচলা।

 

নতুন বছরে এলো বৈশাখ, নতুন বারতা নিয়ে,

গানে গানে তারে বরণ করি ফুলের পাপড়ি দিয়ে

যেন বারবার ফিরে আসে সে আমাদের বাংলায়,

আনন্দ জোয়ারে স্নান করে সে যে নতুন জীবন পায়।

১৯শে এপ্রিল, ২০১৬

Thursday, April 30, 2026

কথিকা -মহাকালের যাত্রায় একটি দিন

আজ ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ। সাল ২০২২, অর্থাৎ দিনটি হলো ২.২.২০২২ তারিখ। আশ্চর্য্য বিন্যাসযুক্ত সংখ্যার সমাহারে তৈরী একটি দিন। মনে পড়ছে জীবনের বহু বছর এভাবে তারিখের সমাহার উপভোগ করেছি বন্ধুদেরকে চিঠি লিখে। প্রথম এই বোধটি আমার ভেতর জাগ্রত করে একটি মেয়ে তার নাম সেলিমা বেগম হেনা, বাড়ি দত্তের বাজার, গফরগাঁও। সেদিনটি ছিল ৬.৬.৬৬ মানে ৬.৬.১৯৬৬; খুব মজা পেয়েছিলাম। তারপর বহুবার এ চিঠি লেখার চর্চা ছিল। কিন্তু ‘মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়’, জীবনের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে গিয়ে আর তেমন লেখা হয়ে ওঠেনি। এবার জীবনের অস্তাচলের পথে এসে বারবার এরকম তৈরী দিনের কথা মনে পড়ে যায়। এখন তারা কে কোথায় কে জানে! আমার কথা তাদের মনে পড়ে কিনা কে জানে? দু’একজনকে মাঝে চিঠি দিয়ে সাড়া পাইনি।   

তখন মনে সন্দেহ জাগে– কেমন আছে তারা? সেই শান্ত দুরস্ত মেয়েরা। দাদী নানী হয়ে ঘর পাহাড়া দিচ্ছে নাকি ভবসাগর পাড়ি দিয়েছে কে জানে! আমারও অনেক বয়স। তবুও স্মৃতি অমলিন। ইচ্ছে করে আরেকটিবার কোথাও যদি ওদের সাথে দেখা হতো! সুখের দুখের কথা বলে প্রাণ জুড়াতে পারতাম। এমন সংখ্যার দিন তারিখ জীবনে আর আসবে কিনা জানিনা তবুও এই প্রচন্ড শীতের মাঝে  আমার লেখাটি আমার কথা ভবিষ্যতের মানুষের কাছে আমার কথা বলবে। আমি যে তাদের কেউ ছিলাম, সে কথাটি মনে পড়বে।

স্রষ্টার বাগান, এ পৃথিবী। ফুলে, ফলে, খাদ্যে, শস্যে, ধন রত্নে, বৃক্ষ লতায় পূর্ণ করে এই সব কিছু স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন মানবজাতি ও জীবজগতের জন্য। মানুষই হয়তো তা উপভোগ করে সবচাইতে বেশী। মানবজন্ম এক দুর্লভ জন্ম। এই জন্ম সকলের সার্থক হোক। সকলে আনন্দে বিষাদে এ জীবন পথ অতিক্রম করে সম্মুখ পানে এগিয়ে চলুক তার জয়রথ নিয়ে। মাঝে মাঝে এরকম সুন্দর তারিখ নিয়ে শুভদিন আসবে। তারা যেন দিনটিকে আনন্দের দিন হিসাবে উপভোগ করে। সময়ের স্রোতধারা আর ফিরে আসেনা। ‘চির স্থির কবে নীর, হায়রে জীবন নদে?’ 

আমার প্রিয় সব বন্ধুদেরকে আজকের দিনটিতে শুভেচ্ছা জানাই । যে, যে অবস্থায় আছেন আনন্দে থাকেন, সুখে থাকেন। ভবিষ্যত আমাদের ক্ষণস্থায়ী। অতীতের অর্জিত সুখ শান্তি নিয়ে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হই। বিদায় বন্ধুরা। সকলে ভাল থেকো, সুস্থ থেকো। আবার যদি কোনদিন দেখা হয়, আনন্দ অশ্রু ফেলে কোলাকুলি করো। ভরসা করে বলো – আবার দেখা হবে, আবার কথা হবে। আবার শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে – আজ ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সাল। 

বিদায় – বিদায় বন্ধুরা। 

০২.০২.২০২২

উৎসর্গ

 আমার পিতাকে যাঁর জীবনের পাথেয় ছিল আপোষহীন নীতি আর শৃঙ্খলা।   আমার মাতাকে ছেলেমেয়েদের মেধা ও মননশীলতায় যিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। আমার স্বামী...