ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সরদার। দেশে আইন নেই, শৃংখলা নেই, বিদ্যুৎ নেই, চাকুরী নেই তবুও বীনদেশী নিয়ম কানুন প্রচলন করে উন্নতির বুলি উচ্চারণ করি। সবকিছু ধ্বংসের পথে। উন্নতির ক্ষেত্র কোনটি তা গবেষণার বিষয়। বিদেশের সময় পরিবর্তনের ঘটনা দেখে আমাদের মত দেশের সাধ জাগে বছরে দু’রকম সময়ের ঘোড়া চালাতে। তাতে নাকি দেশের উন্নতি হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন সময়ের হেরফেরে কিভাবে সম্ভব এবং কতটুকু সম্ভব সেটা ভাববার বিষয়। বিষয়টি জুতা আবিষ্কারের মতই সহজ। এতোদিন মনে ছিলা। এই যা।
সত্যিই তুঘলকি কান্ডই বটে! নইলে একই দেশের standard time কোন এক বিশিষ্ট ব্যক্তির খামখেয়ালীপনার উপর নির্ভর করে কি করে! বর্তমান যুগ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক। এত অগ্রসরমান কালে কি করে দেশের ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যায়! ঘড়ির কাঁটা চলর নির্ণয় করার করবার মালিক হচ্ছে ভূ-মন্ডলের উপর উত্তর – দক্ষিণে প্রলম্বিত কল্পিত রেখা – যার নাম দ্রাঘিমা। সূর্য্য যখন দেশের মধ্যাংশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্রাঘিমার ঊপর অবস্থান করে তখনই সেদেশের ‘সময়’ নির্ধারণ হয় এবং তখনই সে দেশে দুপুর বারোটা বাজে। এই ‘বারোটা’ বাজাই সময়ের খুঁটি। দেশটি ছোট হলে এই একই সময় সারা দেশের লোকেরা মেনে চলে। যদিও লক্ষ্য করবেন, দ্রাঘিমার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সময়ের কিছুটা তারতম্য দেখা যায়। আর দেশ যদি আমেরিকার মতো বিরাট হয়, তখন দেশে দু’রকম সময় বজায় রাখতে হয়। একটি standard time আরেকটি local time. কারণ দেশের দুই দিকে সূর্যের অবস্থানের কারণে সময়ের অনেক ব্যবধান দেখা যায়।
সুতরাং দেশের সময় নির্ধারণ একটি প্রকৃতিগত ব্যাপার, ভৌগলিক ব্যাপার। রাজা বাদশার ইচ্ছা বা আবদারের উপর ভিত্তি করে স্থির করা যায় না। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আদিকাল থেকে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যাক্তিগণ সময়কে নির্দ্দিষ্ট করে গিয়েছেন। নিজেদের খামখেয়ালীপনা চরিতার্থ করবার জন্য নয়। এদেশের বাসিন্দাদের জন্য যা প্রাকৃতিক ভাবে ধার্য্য করা হয়েছে তাই ঠিক। এর ব্যতিক্রম ঘটানো কোন বুদ্ধিমান গোষ্ঠীর বা দলের উচিৎ নয়। এতে জাতির মানহানি হয়। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় । সারা বিশ্বের সময়ের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে অংক কষে চলতে হয়। অংক কেবল আমাদেরকে কষতে হবে। অন্য কোন দেশকে নয়। তাদের মস্তিষ্কে বিদ্যা বুদ্ধি ও জনগণের সুযোগ সুবিধার বাস্তব ধারণ আছে।
এই ‘সময়’ এগিয়ে নেওয়াতে আরেকটি অপরাধ হয়েছে। পরের দিন এবং তারিখ থেকে আমরা এক ঘন্টা চুরি করছি বা দখল করে নিচ্ছি। যেমন শুক্রবার রাত বারোটায় ধরা যাক ২০ তারিখ শেষ হবে। নতুন (পরিবর্তিত) সময় তখনও ১১ টা। নতুন সময় যখন রাত ১২টা বাজবে, তখন পুরাতন দিনের শনিবারের ১ ঘন্টা সময় দখল হয়ে যাবে।এভাবে শনিবারও পরের রাতের অন্ধকারে রবিবারের ১ ঘন্টা চুরি করে নেবে। অর্থাৎ শনিবারের শুরুর ১ ঘন্টাকে আমরা শুক্রবার বলবো। তদ্রুপ রবিবারের প্রথম ঘন্টাকে আমরা শনিবার বলবো। এভাবে দিন ও তারিখ দুটোকেই চুরি করা হচ্ছে। এটি খারাপ কাজ নয়কি? আমরা নাগরিকরা নিরুপায় হয়ে সরকারের এরকম একটি অন্যায় আদেশ পালন করছি। প্রকৃতি, সূর্য, সকাল–সন্ধ্যা, নামাজের ওয়াক্ত, ইফতারের সময়,পশু পাখির জীবন যাপন এসব কিন্তু ভূগোলের নিয়ম মেনেই চলছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের চলা উচিৎ হচ্ছে কি?
***
No comments:
Post a Comment